What to do to prevent anal diseases

What to do to prevent anal diseases

পায়ুপথের রোগ প্রতিরোধে করণীয়

পায়ুপথের প্রধান রোগগুলোর মধ্যে পাইলস (অর্শ), অ্যানাল ফিসার (গেজ) ও ফিস্টুলা (ভগন্দর বা নালি ঘা) অন্যতম। এসব রোগের মূল কারণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য ও মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া ইত্যাদি।

পাইলস: মলদ্বার বা এর ভেতরের অংশের শিরা ফুলে গিয়ে মাংসপিণ্ড তৈরি হওয়া। এতে মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত যায়।

অ্যানাল ফিসার: মলত্যাগের সময় শক্ত মল বা অতিরিক্ত চাপের কারণে মলদ্বারের চারপাশের চামড়া ফেটে যাওয়া। তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়।

ফিস্টুলা ও অ্যাবসেস: মলদ্বারের ভেতরের গ্রন্থিতে সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমা হওয়া এবং ফেটে গিয়ে নালি তৈরি হওয়া।

প্রতিরোধ ও প্রতিকারে করণীয়

খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর আঁশযুক্ত খাবার—যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও সালাদ রাখুন। এগুলো মল নরম করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ (কমপক্ষে ২-৩ লিটার) পানি পান করুন। কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস পানিতে ইসবগুলের ভুসি ভিজিয়ে খেতে পারেন।

মলত্যাগের সঠিক অভ্যাস: প্রতিদিন একই সময়ে মলত্যাগের অভ্যাস করুন। মলত্যাগের বেগ হলে চেপে রাখবেন না। টয়লেটে গিয়ে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া বা দীর্ঘক্ষণ জোর করে বসে থাকা থেকে বিরত থাকুন।

ঘরোয়া পরিচর্যা: সিজ বাথ অর্থাৎ মলদ্বারের ব্যথায় আরাম পেতে কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে কোমর ডুবিয়ে ১০-১৫ মিনিট বসে থাকতে পারেন।

পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা: মলত্যাগের পর মলদ্বার আলতোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন। এতে সংক্রমণ প্রতিরোধ হবে।

সতর্কতা: অনেকে পায়ুপথের সমস্যায় নানা টোটকা, কবিরাজির শরণাপন্ন হন, যা আরও বিপদ ডেকে আনে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, অসহ্য ব্যথা বা মলদ্বারে বড় কোনো মাংসপিণ্ড দেখা দিলে দ্রুত কলোরেক্টাল সার্জনের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

কলোরেক্টাল অ্যান্ড পেলভিক ফ্লোর সার্জন এবং সহযোগী অধ্যাপক, কলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগ, 
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।
চেম্বার : পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড, ভবন-৬, রোড-২
ধানমন্ডি, ঢাকা। ০১৭১১৩৭৯৭২৪, ০৯৬৬৬৭৮৭৮০১
What to do to prevent anal diseases 2

Similar Posts

  • Prevention and treatment of anal cancer caused by human papillomavirus

    হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসজনিত পায়ুপথের ক্যানসার প্রতিরোধ ও তার চিকিৎসা ———————————- অনেক কারণেই পায়ুপথের ক্যানসার হতে পারে। হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসনামক ভাইরাস সংক্রমণের ফলেও পায়ুপথের ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কাথাকে। তবে অনেকাংশেই এই ভাইরাস সংক্রমণপ্রতিরোধ করে ভাইরাস সংক্রমণ জনিত পায়ুপথের ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারা এই রোগে আক্রান্ত হনঃ ■ হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তি■ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যাঁদের…

  • জটিল ফিস্টুলার নতুন চিকিৎসা (BEST)

    জটিল ফিস্টুলার নতুন চিকিৎসা – BEST (Balloon Expansion Suppression Technique) সর্বপ্রথম বাংলাদেশে এই চিকিৎসা নিয়মিত ভাবে দিচ্ছেন ডাঃ মোঃ মেজবাহুল বাহার ল্যাপারোসকপিক, সার্জারী ও লেজার পাইলস্ বিশেষজ্ঞ এমবিবিএস, এফসিপিএস (সার্জারী) এমআরসিএস (এডিনবার্গ, ইউ কে) সহকারী অধ্যাপক (সার্জারী) লেজার পাইলস্ সার্জারীতে উচ্চতর প্রশিক্ষন প্রাপ্ত, ভারত। মেম্বারঃ পাইলস্ সার্জারী এসোসিয়েশন (ACRSI) ভারত। মেম্বারঃ ল্যাপারোসকপিক সোসাইটি (AMASI) ভারত।…

  • ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য

    ব্রেস্ট (স্তন) সম্পর্কে সচেতন হোনঃ আপনি যে বয়সেরই হোন না কেন স্তন সম্পর্কে সচেতন হওয়া আপনার জন্য খুবই জরুরী। স্তনে চাকা বা গোটা মানেই ক্যান্সার নয়। ক্যান্সার ছাড়াও স্তনে বিভিন্ন কারনে চাকা বা ব্যাথা হতে পারে। স্তনের ৯০ শতাংশ চাকা বা গোটা ক্ষতিকর নয়, এগুলো থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুকি থাকে না। স্তনে ক্যান্সার যে কোনো…

  • HOW TO SELECT THE BEST SURGERY DOCTOR NEAR ME

    A surgeon is a physician who is trained to perform surgical procedures. It is a profession that demands exceptional manual dexterity and fine motor skills to carry out the techniques needed to investigate disease, repair or remove damaged tissues, or improve the function or appearance of an organ or body part. Now it’s very needed…

  • Laser-assisted piles surgery provides relief

    লেজারের সাধ্যমে পাইলস্ অপারেশনে স্বস্তি লেজার হেমোরয়েডোপ্লাস্টি কী? লেজার হেমোরয়েডোপ্লাস্টি (LHP) হলো পাইলস বা অর্শ্বরোগের চিকিৎসায় একটি অত্যাধুনিক, ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (Minimally Invasive) পদ্ধতি। এতে লেজার শক্তির সাহায্যে পাইলসের ফোলা রক্তনালীগুলোকে রক্তশূন্য ও সংকুচিত করে দেওয়া হয়, ফলে কোনো বড় কাটাছেঁড়া বা সেলাইয়ের প্রয়োজন পড়ে না। তাই অনেক রুগী এতেও আগ্রহী হচ্ছে, এতে স্বস্তিও পাচ্ছে বেশি।…

  • স্তন (ব্রেস্ট) ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ

    স্তন ক্যান্সারে নারীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। সাধারণত ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে এতোদিন এই ক্যান্সারের ব্যাপারে নারীদের সচেতন করার জোরটা ছিল বেশি, কিন্তু এখন পুরুষদেরকেও সচেতন করার জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, পুরুষদের মধ্যেও স্তন ক্যান্সার দেখা দিতে পারে। যদিও পুরুষদের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার হার…